ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী হাবিবুর রহমান ও বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ছিলেন একে অন্যের প্রতিপক্ষ। ভোটের মাঠে কে কাকে কিভাবে পরাস্থ করবেন সেই হিসেব ছিলো তাদের। সিলেট-১ আসন থেকে ভোটের লড়াইয়ে বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জয়ীও হয়েছেন। সেই সাথে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীও হয়েছেন।
কিন্তু ভুলে যাননি তার সাথে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতাকারী জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমানকে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সিলেটের একটি অভিজাত হোটেলে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে বিএনপির ইফতার মাহফিলে হাবিবুর রহমানকে পাশে নিয়েই ইফতার করলেন মুক্তাদির। অনেকেই এই বিষয়টিকে সিলেটের রাজনৈতিক সম্প্রতি অটুট আছে বলে মনে করছেন। একই সাথে তারা নির্বাচনের সময়কালিন তাদের প্রধান নির্বাচনি এজেন্টদের মাধ্যমে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটানিং কর্মকর্তার কাছে পাল্টাাল্টি অভিযোগ দিয়েছিলেন।
জানা যায়, আবদুল মুক্তাদির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সিলেট-১ (সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলা) আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি সিলেট-১ আসন থেকে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৩৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান পেয়েছিলেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯৮৩ ভোট। এর আগে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও সিলেট-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন মুক্তাদির। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে খন্দকার মুক্তাদির বিএনপির নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ২০১৬ সাল থেকে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রাজনীতির পাশাপাশি দেশের পোশাক ও উৎপাদন শিল্পেও তিনি একজন পরিচিত ব্যক্তিত্ব। অপরদিকে, জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। একই সাথে সিলেটের একটি হাসপাতালের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ব্যবসায় তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
এসময় খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেটের রাজনৈতিক সম্প্রীতি আমাদের ঐতিহ্য। এই সম্প্রীতি লালন ও ধারণ করে আমরা দল-মত নির্বিশেষে আধুনিক সিলেট গড়তে কাজ করব। সিলেটের উন্নয়ন কোনো ব্যক্তি বিশেষের জন্য নয়, বরং এই অঞ্চলের সামগ্রিক কল্যাণের জন্য।
তিনি বলেন, সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক সংস্কার কিংবা সুপেয় পানির সমস্যার সমাধান হলে কোনো ব্যক্তি নয়, পুরো সিলেটবাসী উপকৃত হবেন। নির্বাচনের সময় আমরা যে নির্বাচনী ইশতেহার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি, আগামী পাঁচ বছরে তা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। সিলেটের জীবনমান উন্নয়নে প্রতিটি কাজ আগামী দিনে দৃশ্যমান হবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে একটি চ্যালেঞ্জিং ক্ষেত্র উল্লেখ করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। যদিও আমরা রোজার মাত্র একদিন আগে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি, তবে বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ ও ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ রয়েছে। বিশেষ করে রমজানে অতি প্রয়োজনীয় আমদানি নির্ভর পণ্যগুলোর দাম স্থিতিশীল পর্যায়ে আছে। বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/পিটি